Posts
বাংলাদেশ ব্যাংক সাইবার হ্যাকিং: ১ বিলিয়ন ডলার চুরির চাঞ্চল্যকর রহস্য
বাংলাদেশ ব্যাংক সাইবার হ্যাকিং: ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্থ চুরির ঘটনা
২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে, যা "বাংলাদেশ ব্যাংক সাইবার হেইস্ট" নামে পরিচিত। এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের পেছনে ছিল উত্তর কোরিয়ার beruchte হ্যাকার গ্রুপ "Lazarus", যারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যাংকের আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা SWIFT (Society for Worldwide Interbank Financial Telecommunication) হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারে ম্যালওয়্যার (ভাইরাস) প্রবেশ করিয়ে হ্যাকাররা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে ১ বিলিয়ন ডলার (১০০ কোটি ডলার) পাঠানোর অনুরোধ পাঠায়। তবে বিভিন্ন কারণে ৮১ মিলিয়ন ডলার (৮ কোটি ১০ লাখ ডলার) ফিলিপাইনের বিভিন্ন ব্যাংক ও ক্যাসিনোতে স্থানান্তরিত হয়।
হ্যাকাররা এত নিখুঁতভাবে অপারেশনটি পরিচালনা করেছিল যে কয়েকদিনের জন্য এটি ধরা পড়েনি। এমনকি তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম থেকে ট্রান্সজেকশন নোটিস মুছে ফেলে, যাতে কর্মকর্তারা সহজে কোনো অসঙ্গতি বুঝতে না পারেন।
হ্যাকাররা মোট ১ বিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্যের ব্যাপার যে একটি বানান ভুল (Foundation-এর বদলে "Fandation") তাদের ধরা ফেলে দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এই ভুলটি দেখে সন্দেহ করে এবং বাকি ট্রান্সজেকশন ব্লক করে দেয়। ফলে পুরো ১ বিলিয়ন ডলার চুরি না হয়ে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, ফিলিপাইনে এই টাকা স্থানান্তর হওয়ার পর ক্যাসিনোতে লন্ডারিং (অবৈধভাবে টাকা সাদা করা) করা হয়, যার ফলে টাকা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টার ফলে মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বাকি টাকা এখনো হারিয়ে গেছে এবং এর বড় অংশ ক্যাসিনোর মাধ্যমে অন্য দেশে পাচার হয়ে গেছে।